একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকেই সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, বিধানদাতা এবং ইবাদতের মালিক একক সত্তা হিসেবে বিশ্বাস করা ও মেনে নেওয়াকে তাওহিদ বলে।
ইমানের প্রথম কথা হলো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস। আর আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের মূলকথা হলো তাওহিদে বিশ্বাস। ইসলামের সকল বিধান এবং সকল শিক্ষাই তাওহিদে বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ কারণে আমরা তাওহিদে বিশ্বাস করব।
আনোয়ার সাহেব সৃষ্টিজগতের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখতে পাবেন যে, আমাদের মাথার উপর রয়েছে বিশাল আকাশ। তাতে আছে গ্রহ, নক্ষত্র, চন্দ্র, সূর্য ইত্যাদি। আবার আমরা যে পৃথিবীতে বাস করছি তাও কত সুন্দর। এতে আছে নদীনালা, সাগর, মহাসাগর, পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল। আরও আছে ফল, ফুল, ফসল ইত্যাদি। এসব নিজে নিজে সৃষ্টি হয় নি। নিশ্চয়ই এসবের একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন, যিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে এসব সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি হলেন মহান আল্লাহ।
অনুরূপভাবে আনোয়ার সাহেব বুঝতে সক্ষম হবেন যে, এ বিশাল সৃষ্টিজগতের যদি একাধিক সৃষ্টিকর্তা থাকত তাহলে এ বিশাল সৃষ্টিজগৎ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হতো না। নানারূপ বিশৃঙ্খলা দেখা দিত কিংবা এ সৃষ্টিজগৎ এতদিনে ধ্বংস হয়ে যেত। এ উপলব্ধি থেকে আনোয়ার সাহেব আল্লাহর পরিচয় লাভ করবেন।
তাওহিদ বা একত্ববাদে বিশ্বাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। উদ্দীপকে বর্ণিত আনোয়ার সাহেবের আলোচনার আলোকে তাওহিদে বিশ্বাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিচে উপস্থাপন করা হলো-
১. ইসলামের ভিত্তি তাওহিদ: তাওহিদ ইসলামের মূলভিত্তি। আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এবং তিনি সবকিছুর মালিক ও সর্বক্ষমতার অধিকারী এ বিশ্বাসের ওপরই ইসলাম প্রতিষ্ঠিত। তাই ইসলামে তাওহিদের তাৎপর্য অত্যধিক।
২. ইমানের প্রথম কথা: ইমানের প্রথম কথা হলো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস। আর আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের মূলকথা হলো তাওহিদে বিশ্বাস। ইসলামের সকল বিধান এবং সকল শিক্ষাই তাওহিদের বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
৩. আল্লাহ একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ও বিশ্ব নিয়ন্তা। সবকিছু সৃষ্টি করে তিনি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন একক ও দ্ব্যর্থহীনভাবে।
৪. ইমানী শক্তি বৃদ্ধি : তাওহিদের অনুসারীদের ইমানী শক্তি থাকে অত্যন্ত মজবুত। তারা সবসময় আল্লাহর অনুগত ও অনুগামী থাকে। তারা সহজে পথভ্রষ্ট হয় না।
৫. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন: তাওহিদ অর্থাৎ আল্লাহর একত্ববাদের অনুসারীরা ইসলামের বিভিন্ন বিধিবিধান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলে। ফলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সহজতর হয়।
পরিশেষে বলা যায়, তাওহিদে বিশ্বাস মানুষের আত্মসচেতনতা ও আত্মমর্যাদাবোধ জাগিয়ে তোলে। এ বিশ্বাস সব বিভেদ ভুলিয়ে সৃষ্টি করে ঐক্য এবং তৈরি করে উদার দৃষ্টিভঙ্গি। ফলে ইমান হয় সুদৃঢ়, অর্জিত হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি।
Related Question
View Allকালিমা তাইয়্যিবার অর্থ হলো- আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল।
রিসালাত বলতে নবি রাসুলগণ যে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেসব দায়িত্বকে বোঝায়। রিসালাত শব্দের অর্থ বার্তা, খবর, চিঠি, সংবাদবহন প্রভৃতি। আল্লাহ তায়ালা নবি-রাসুলগণকে অনেক দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করেছেন। যেমন, মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা, সত্য দীন প্রচার করা, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা ইত্যাদি। নবি রাসুলগণের এসব দায়িত্বকেই রিসালাত বলা হয়।
মামার নিকট মেজবাহর প্রশ্নটি আকাইদের তাওহিদ বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও রিযিকদাতা। তিনি ব্যতীত ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই। তিনিই হলেন একমাত্র ইলাহ। আল্লাহর প্রতি এরূপ বিশ্বাসকে তাওহিদ বলে।
মেজবাই তার মামার সাথে সুন্দরবন বেড়াতে যায়। সুন্দরবনের গাছগাছালি ও সমুদ্রতীরের মনোরম দৃশ্যাবলি তাকে মুগ্ধ করে। সে অবাক হয়ে তার মামার কাছে জানতে চায়- এসব কিছুর স্রষ্টা কে? জবাবে মামা তাকে বলেন, এসবকিছুর স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালা। কারণ সুন্দরবনের গাছগাছালি কোনো মানুষ রোপণ করেনি। সাগর সৃষ্টি করাও মানুষের কাজ নয়। এগুলো প্রকৃতিরও সৃষ্টি নয়। বরং এসব কিছু আল্লাহ তায়ালা মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তিনি যখন কোনোকিছু সৃষ্টি করতে চান, তখন তিনি বলেন, 'কুন' (হয়ে যাও) তাৎক্ষণিকভাবে হয়ে যায়। আর এগুলো লালন পালনও তিনি করেন। যদি এসব কিছু সৃষ্টি ও লালন-পালনে একাধিক স্রষ্টা থাকত তাহলে প্রত্যেকে নিজ নিজ রাজত্ব নিয়ে পৃথক হয়ে যেত। অথবা রাজত্ব পরিচালনায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিত। এ থেকে বোঝা যায়, স্রষ্টা একজন যা – তাওহিদকে প্রকাশ করে।
সুতরাং বলা যায়, মেজবাহর প্রশ্নটি আকাইদের তাওহিদ বিষয়ের বিষয়ের সাথে সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
মেজবাহর প্রশ্নের জবাবে তার মামা বলেছিল, এ পৃথিবীর সবকিছুই আল্লাহর সৃষ্টি। চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র এবং গাছগাছালি, জলপ্রপাত, সমুদ্রের জলরাশি সবই একজনের সৃষ্টি। মেজবাহর মামার এ উত্তরটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত।
বস্তুত আল্লাহ তায়ালাই সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্তা। মহাজগতের নিয়ম-শৃঙ্খলা তাঁরই দান। আর পশুপাখি, গাছপালাসহ সবকিছুর-নিয়ন্ত্রকও তিনি। তিনিই সবকিছু করেন। বরং তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই হয়। এসব কিছুতে যদি একের বেশি নিয়ন্তা থাকত, তবে নানারকম বিশৃঙ্খলা দেখা দিত। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন-
لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةً إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا
অর্থ : 'যদি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে, আল্লাহ ব্যতীত বহু ইলাহ থাকত, তবে উভয়েই ধ্বংস হয়ে যেত।' (সূরা আল-আম্বিয়া: ২২)
একটু চিন্তা করলেই আমরা বিষয়টি বুঝতে পারব। যেমন মহাজগতের সৃষ্টিকর্তা ও বিধানদাতা যদি একাধিক হতেন, তাহলে মহাজগৎ এত সুশৃঙ্খলভাবে চলত না। একজন স্রষ্টা চাইতেন সূর্য পূর্বদিকে উঠুক। আরেকজন চাইতেন পশ্চিম দিকে। আবার অন্যজন দক্ষিণ বা উত্তর দিকে সূর্যকে উদিত করতে চাইতেন। ফলে এক চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিত।
এমনিভাবে আম গাছে আম না হয়ে কোনো কোনো সময় কাঁঠাল, জাম ইত্যাদিও হতে পারত। এতে আমরা বেশ অসুবিধায় পড়তাম। বস্তুত একাধিক স্রষ্টা বা নিয়ন্ত্রক থাকলে বিশ্বজগতের সুন্দর সুশৃঙ্খল অবস্থা বিনষ্ট হয়ে যেত। আল-কুরআনের অন্য এক আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন-
وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهِ إِذًا لَذَهَبَ كُلُّ إِلَهُ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ
অর্থ : 'আর তাঁর (আল্লাহর) সাথে কোনো ইলাহ নেই। যদি তা থাকত, তবে প্রত্যেক ইলাহ নিজ নিজ সৃষ্টিকে নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত।' (সূরা আল-মুমিনুন : ৯১)
উল্লিখিত আলোচনা হতে এটাই প্রমাণিত হয়, সব কিছুর স্রষ্টা ও নিয়ন্তা হলেন মহান আল্লাহ তায়ালা। এজন্য মেজবাহর মামার উত্তরটি সঠিক ও যৌক্তিক।
আখিরাত শব্দের অর্থ- পরকাল। মৃত্যুর পরবর্তী অনন্ত জীবনই হলো আখিরাত।
নৈতিকতা বলতে সুনীতির অনুশীলন করাকে বোঝায়, অর্থাৎ কথা ও কাজে উত্তম রীতিনীতির অনুশীলন করা, মার্জিত ও বিনয়ী হওয়া, উত্তম চরিত্রবান হওয়া ইত্যাদি। এর পাশাপাশি অন্যায় কাজ, অশ্লীল ও অশালীন কাজ, পাপাচার প্রভৃতি অসৎ চরিত্র পরিত্যাগ করাও নৈতিকতার অন্তর্ভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!